বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটা বড় প্রশ্ন আমরা আসলেই কতটা অগ্রসর হয়েছি? ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বাংলাদেশের শ্লোগান নিয়ে গর্ব করলেও আমরা কি সত্যিই সবাই একসাথে থেকে একই সূর্যের আলোয় জীবন কাটাচ্ছি? সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সরকারের পরিসংখ্যান নিয়ে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, সেখানে প্রতিটি সংখ্যা এক একটি জীবন, এক একটি গল্প। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সব অভিযোগ আসলে কতটা ভিত্তিহীন? নাকি সত্যিই আমাদের সমাজে কিছু ফাঁক থেকে গেছে যা পূরণ করা দরকার?

সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে করা কেসগুলো অনেকাংশে ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বলে দাবী করা হচ্ছে। কিন্তু সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো সেগুলোর সত্যিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই প্রশ্ন শুধু কি সরকারের তথ্যের স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে, নাকি পুরো সমাজব্যবস্থার নৈতিকতার? আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমাদের সামাজিক কাঠামো এখনও অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো মানসিকতায় বদ্ধ। এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বললে, সেটা অনেক সময়ই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কি বলে?

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি যখন ছোট ছিলাম, আমাদের পাড়ায় একটি হিন্দু পরিবার ছিল। তারা বছরের পর বছর ধরে আমাদের পাড়ায় থাকলেও সবসময় একটা অজানা ভয়ে দিন কাটাতো। তাদের মৌলিক অধিকার কতটা নিশ্চিত ছিল, সেই প্রশ্ন আজও আমার মনে উটেই। অনেক সময় দেখা যেতো, পাড়ার কোন অনুষ্ঠান হলে তারা নিজেরাই নিজেদের আলাদা করে রাখতো। কিন্তু কেন? এটা কি তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য, নাকি আমাদের সবারই কিছু দায়িত্ব ছিল সেখানে?

এই প্রশ্নগুলো আজও আমার মনে উঁকি দেয়। আসলে, আমরা কতটা সহনশীল এবং গ্রহণযোগ্য? সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সত্যিই কি ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ মামলা হিসেবে গণ্য করা ঠিক? এই সব মামলাগুলো কি শুধুমাত্র ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তৈরি সমস্যা নাকি আসলে সামাজিক অসাম্যর প্রতিফলন?

এখানে আমি কিছু অতীত ঘটনার উদাহরণ দিতে চাই, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের আচরণ দেখা গেছে। এক্ষেত্রে, সরকার এবং সমাজের নৈতিক দায়িত্ব কেমন হওয়া উচিত? সরকারের দায়িত্ব কি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান প্রকাশ করা, নাকি এই সব সমস্যার শিকড়ে গিয়ে সমাধান খুঁজে বের করা? এবং কীভাবে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এগিয়ে যেতে পারি?

এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করার। ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা মানেই যে বৈষম্য, এটা কি সত্যি? না, বরং এটা আমাদের সমাজের বৈচিত্র্যতার প্রতীক হওয়া উচিত। আমাদের উচিত নিজেদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন আনা, এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাথে একসাথে সহাবস্থান করা।

আমরা যখন বাংলাদেশকে ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বলে দাবি করি, তখন তার পেছনে কি শুধু শ্লোগান আছে নাকি বাস্তবিক কোনো ব্যবস্থা আছে? প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। শুধু মাত্র শ্লোগান দিয়ে কি সব সমস্যার সমাধান হবে? না, সময় এসেছে আমাদের চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করার। আমাদের সমাজকে উন্নত করতে হলে, এই সব বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া অতি জরুরি। সেই সাথে আমাদের নিজেদেরকেও প্রশ্ন করা উচিত আমরা কি সত্যিই ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ হতে পেরেছি?

By avijit