২৫৮টি ঘটনা’ সংখ্যালঘু ঐক্যপরিষদের প্রেসকনফারেন্সের ভেতরেরগল্প

বন্ধুরা, আজ আমাদের আলোচ্য বিষয়টি একটু ভিন্নতর। আমরা যে দেশে বসবাস করি, তার নানা গঠন এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। গত জুনে সংখ্যালঘু ঐক্যপরিষদ এক শক্তিশালী প্রেসকনফারেন্সে ২৫৮টি ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলেছে। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে একটু বিশদে আলাপ করা দরকার। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসুন, চলুন আজ আমরা গভীরে যাই।

একটি দেশের উন্নয়নে সকল সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ জরুরি। অথচ আমাদের দেশে সংখ্যালঘুরা বারবার বৈষম্যের শিকার হয়। সংখ্যালঘু ঐক্যপরিষদের এই প্রেসকনফারেন্সের মূলে ছিল ২৫৮টি ঘটনা, যা স্পষ্টতই আমাদের সমাজের একপ্রকারের অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ছিল হামলা, জমি দখল, ধর্মীয় অবমাননার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে। তবে এই ঘটনাগুলোর মূলে কী ছিল, কেনইবা এসব ঘটল এসব প্রশ্নের মীমাংসা যেন আজও অধরা।

প্রেসকনফারেন্সের প্রথমার্ধে সংগঠনের সভাপতি আমাদের সামনে বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং তথ্য তুলে ধরলেন। তিনি জানালেন, বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে ভূমি দখল এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করেছে। সত্যি বলতে কী, এটা খুবই দুঃখজনক যে আমরা এখনও এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কথা বলছি। কেন আমরা আমাদের সমাজের একটি বড় অংশকে সুরক্ষিত রাখতে পারি না?

আমার মনে পড়ে যায়, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশ। তার সাথে আমার একদিন কথা হচ্ছিল। সে বলল, আমরা এত বছর ধরে সংগ্রাম করছি, তবুও কেন যেন আমাদের কণ্ঠ কেউ শুনতে পায় না। তার কথার সত্যতা আমি উপলব্ধি করতে পারি প্রেসকনফারেন্সের প্রতিটি বক্তব্যে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলছিলেন, আর সংগঠনের নেতারা সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন।

আমাদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে কি সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই? প্রেসকনফারেন্সের একটি অংশে আলোচনা হয়েছিল সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে। সরকার নাকি অনেকবার আশ্বাস দিয়েছে সমস্যাগুলো সমাধানের, কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা কখনই সম্ভব হয়নি। তবে, এই ব্যর্থতা কি শুধু সরকারের, নাকি সমাজেরও? এসবে কি আমাদেরও কোনো দায় নেই?

আমার কাছে মনে হয়, আমাদের সমাজের মূল সমস্যাটি হল শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাব। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতি এবং সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিতে পারি, তাহলে সম্ভবত এই বিরোধগুলো কিছুটা কমে আসবে। প্রেসকনফারেন্সে এই বিষয়টি নিয়েও কথা ওঠে। অনেকেই বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে। না হলে এই সমাজকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি?

প্রেসকনফারেন্সের শেষে কিছু সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত সেসব সুপারিশের মধ্যে অন্যতম ছিল এক ধরনের বিশেষ কমিশন গঠন, যা সংখ্যালঘুদের সমস্যার সমাধানে কাজ করবে। এই প্রস্তাবনাটি আমার খুবই প্রিয় লেগেছে। যদি এ ধরনের কমিশন বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারব।

প্রেসকনফারেন্স শেষ হওয়ার পর আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম। আমাদের সরকার, আমাদের সমাজ, এবং আমাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা থাকলে কেনই বা আমরা এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারি না? আমাদের কি আরও শিক্ষা, আরও সচেতনতায় উন্নতি করা উচিত নয়? আমরা কীভাবে একটি সুন্দর এবং সমানাধিকার ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি?

এখানে আমাদের সকলেরই কিছু না কিছু করণীয় আছে। প্রত্যেকের উচিত অন্যের অবস্থান থেকে দেখার চেষ্টা করা, তাদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা। হয়তো এভাবেই আমরা একটি সুন্দর সমাজ, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। বন্ধু, আপনারা কী মনে করেন? আমাদের কি প্রকৃতপক্ষে এই দায়িত্ব নিতে হবে না? যদি না নেই, তাহলে পরিবর্তন কীভাবে আসবে?

By amitav