আমি নাস্তিক এবং বাইসেক্সুয়াল একজন মানুষ। নাস্তিক হয়ে ধর্মের সমালোচনা করি। কারন ঈশ্বর আমি মানি না। ছোটবেলা থেকেইএই ধর্মীয় কাস্ট সিস্টেমের ভেদাভেদ, নিচু জাত বলে উঁচু জাতের অত্যাচার- অনাচার , আর আমাদের মতো শূদ্রদের সমাজ এবং ধর্মমানুষ মনে না করাকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্বের শুরু। এবং আমার বাইসেক্সুয়ালিটি ধর্ম যখন অস্বীকার করে এবং ধর্ম যখন আমাদের মতোLGBT মানুষদের হত্যার আদেশ দেয়, সেই ধর্ম এবং ঈশ্বরকে আমি মানি না। তাই আমি নাস্তিক। কিন্তু যারা আস্তিক তাদের আমি ঘৃণাকরি না। কিন্তু আস্তিকরা আমাদের মতো নাস্তিকদের ঘৃণা করে এবং ধর্মের  গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে, তাদের মতে, যেকোনো কিছু বা যেকোনো বক্তব্য তাদের ধর্মের পরিপন্থী, যুক্তি তর্কে হেরে গেলে, আমাদের মতো নাস্তিক এবং LGBT সম্প্রদায়েরমানুষদের মেরে ফেলে।ধর্মের নামধারী এই মৌলবাদী কট্টরপন্থী মানুষগুলো এই সকল খুনের মুল হোতা। ধর্মের নামে যখন কোরানেরআদেশ পালন করতে কাফর হত্যা করে, সেই হত্যা আল্লাহ্‌ ধর্ম রক্ষার আদেশ বলে ইসলামী জিহাদি জঙ্গিরা মনে করে। মৌলবাদীজনগণ এই হত্যা সমর্থন করে। আর বাংলাদেশে ধর্মের নামে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না। তাই জাকে ইচ্ছা, যখন তখন, ইচ্ছে মতো ধর্মঅবমাননার দায়ে, সমকামিতার দায়ে মেরে ফেলার এক তাণ্ডব কালচার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। আর এই ধর্মেরনামের চলে সংখ্যালঘু হত্যা। মানুষ জেনে গেছে ধর্মের নামে কাউকে মেরে ফেললে এর বিচার হয় না। এইসকল খুনিদের গ্রেফতার করাহলে পরে এরা জামিন পেরে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ধর্ম অবমাননার মামলা দিলে সেই মামলায় জামিন হয় না। হয় মৃত্যু। আর এই ধর্মঅবমাননার মামলা হয় নাস্তিক আর বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নামে।অসহায় হিন্দুদের নামে। এভাবেই চলে কট্টর মুসলিমদের হিন্দুনিধন আর খুন।

ধর্ম কেউ মানতে নাই পারে। সেই ব্যাক্তির যথেষ্ট কারন নিশ্চয়ই আছে ধর্ম না মানার। কিন্তু কেই ধর্ম মানে না বলে তাকে জোর করে ধর্মকে মানাবেন, জোর করে মুসলিম করবেন। আর তাতে যদি কাজ না হয় তাকে ধর্মের নামে মেরে ফেলে জিহাদ করবেন, এই আস্পর্ধা কোথায় পেয়েছেন আপনারা? আপনার কারো ধর্ম ভালো নাই লাগতে পারে, তাই বলে আপনার মুসলিম ধর্ম ছাড়া অন্য কেউ অন্য ধর্ম পালন করতে পারবে না? ধর্মের অনুভূতি কি শুধু মুসলিমদের? অন্য কারো ধর্মীয় বা অন্য কোন অনুভূতি থাকা যাবে না? অন্য কেউ ধর্ম পালন করতে গেলে কেন তাদের উপশনালয় ভাঙবেন? ওরা কি অন্যায় করেছে? মুসলিম রাষ্ট্রে হিন্দু ধর্ম পালন করে, এটাই ওদের অপরাধ? তাদের বিচার করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? তাদের উপাসনালয় প্রশাসন দিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার কে আপনাকে দিয়েছে? আপনি নাকি আপনার আল্লাহ, না আপনার নবী ? দেশের রাজধানীর ভেতর এমন ধৃষ্টতা করার সাহস কে দিয়েছে আপনাদের?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনেক দুর্গা মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়ার দুই দিন পর প্রশাসন কর্তৃক ভেঙেদেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় এস্টেট অফিসার মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদের জারি করা এক আদেশের ভিত্তিতে খিলক্ষেত সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের এই সংবিধান বিরোধী আচরণের মুলে রয়েছে দেশের সরকার আর মৌলবাদী ধর্মীয় মুসলিম রাজনৈতিক দলগুলো। যে দলগুলোর চামচাগিরি করে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে হিন্দু নারী-পুরুষদের কান্নায় ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে দুর্গা মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়। আদেশটি কার্যকর করতে ঢাকারপূর্বাচল সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি বিশাল বুলডোজার মন্দির চত্বরে এসে পৌঁছায়। হিন্দু ভক্তরা মন্দিরের সামনেবসে ভাঙার দলটিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেনা সদস্যরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন এবং এরপর বুলডোজারগুলোকাঠামোটি ভেঙে ফেলতে এগিয়ে যায়।

শেষ উপায় হিসেবে, হিন্দুরা আগামীকাল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে দেওয়ার এবং এরপর ভাঙার কাজ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিল,কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই অভিযানে মন্দিরের প্রতিমা, পূজার সামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ধ্বংস করা হয়েছে। দেবী কালী ওভগবান শিবের প্রতিমা বুলডোজারের নিচে নির্মমভাবে পিষ্ট হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ঠিক এইভাবে যদি আপনাদের মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হতো তাহলে কেমন লাগতো আপনাদের? ধর্মের অনুভূতি শুধুই কি মুসলিমের অধিকার? অন্যান্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি কিংবা নাস্তিক, LGBT সম্প্রদায়ের মানবতার অনুভূতি থাকতে নেই?

অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঢাকার খিলক্ষেত সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে বার্ষিক দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মন্দির প্রাঙ্গণে দেবীকালীর একটি প্রতিমাও রয়েছে, যার নিয়মিত পূজা করা হয়। টিনের চাল দিয়ে নির্মিত মন্দিরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং এটি রেলেরজমিতে তৈরি একটি অস্থায়ী মন্দির হলেও, এই ইসলামী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয় ছিল।

২৪শে জুন রাতে, একটি মুসলিম জনতা মন্দিরটিতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করার চেষ্টা করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে তা খালি করার জন্যসময়সীমা বেঁধে দেয়। তারা ভক্তদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এমনকি তাদের হত্যার হুমকিও দেয়।

তারা হিন্দু ভক্তদের মঙ্গলবার (২৪শে জুন) দুপুর ১২টার মধ্যে মন্দিরটি সরিয়ে ফেলার জন্য চরমপত্র দেয় এবং তাদের নির্দেশ বাস্তবায়ননা করা হলে মন্দিরটি ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর স্থানীয় হিন্দু নেতারা খিলকেত পুলিশের কাছে যান।

তবে, গণ সহিংসতার মাত্র দুই দিন পর মন্দিরটি রক্ষা করার পরিবর্তে উচ্ছেদের নামে হঠাৎ করে তা ভেঙে ফেলা হয়। মোহাম্মদ ইউনুসেরনেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগ জানিয়েছে যে, ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশ নং ২৪-এর ৫(১) এবং ৫(২) ধারায় প্রদত্তক্ষমতাবলে কুড়িল বিশ্ব রোড মোড় থেকে ফিলক্ষেত বাজার এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদেরউচ্ছেদের একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, মন্দিরটি বেদখল করা সরকারি জমিতে অবস্থিত ছিল। কিন্তু হিন্দুরাবলছেন যে, মন্দিরটি প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ছিল এবং এটিকে কখনও অবৈধ বলে গণ্য করা হয়নি। জগন্নাথযাত্রার ঠিক আগে এই ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশের হিন্দুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকার যদিও বলছে এটি ছিল জবরদখল করাজমি থেকে উচ্ছেদ, হিন্দুরা মনে করেন এটি দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান অত্যাচারেরই একটি অংশ। মূর্তিটি ধ্বংস না করে কেনঅন্যত্র সরানো গেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দার মতে, রেল কর্তৃপক্ষই মন্দিরের জন্য জমিটি দান করেছিল।

 তাহলে দান করা জমির দলিল দেখানোর পরেও মন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলা হল? এইভাবে যদি একেকটা মসজিদ ভাঙ্গা হয় কেমন লাগবে কট্টর মুসলিমদের? নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না। কিন্তু আপনারা মসজিদ ভাঙলে সবাইকে হত্যা করে মারবেন। তাহলে আপনার মসজিদ ভাঙ্গার কোথা শুনলেই আপনাদের মাথায় হত্যার চিনটা আসে তাহলে একবার ভাবুন যাদের মন্দির ভেঙ্গেছেন, হিন্দু ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন, তাদের কেমন লাগে? আপনারা এতো বড় ধর্ম অবমাননা করেছেন, আপনাদের উপর ধর্ম অবমাননার মামলা হল না কেন? কারন আপনারা মুসলিম এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে? বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র বলে? রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বলে?আপনারা মৌলবাদী খুনি বলে? ধর্মের নামে অধর্মকারি জালিম জিহাদি বলে?