গ্রামে সংখ্যালঘু দোকানে ক্রেতা কমে যায়, পাশে থাকা মুসলিম দোকান ভরা
এই বিষয়টা একেবারে নিরেট। আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশে যখনই সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা হয়, তখনই কোনো না কোনো এক করুণ বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়ায়। গ্রামাঞ্চলে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। তাদের জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। বিশেষ করে ব্যবসা ক্ষেত্রে। একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়েই বলি। ধরেন, একটি গ্রামে দুটি দোকান পাশাপাশি। একটিতে মুসলিম মালিক, অন্যটিতে সংখ্যালঘু। আমি লক্ষ্য করেছি, অনেক সময় দেখা যায় মুসলিম মালিকের দোকান গমগম করছে, আর সংখ্যালঘুর দোকানে হাতেগোনা ক্রেতা।
এটা হতে পারে স্থানীয়দের মানসিকতার কারণে। মানুষ প্রায়শই পরিচিত বা নিজ সম্প্রদায়ের লোকের কাছে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এটা একটা সামাজিক আবেগ, যেটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। কিন্তু, প্রশ্ন হল, এই প্রবণতা কি ন্যায়সঙ্গত? আমাদের কি উচিত নয় একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করা? আমি মনে করি, আমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য আমাদের এই মানসিকতা বদলানো আবশ্যক।
নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে এসে দেখুন, সংখ্যালঘু দোকানদার যারা, তারা অনেক সময় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। গ্রামে যদি কোনো ঝামেলা হয়, তখন তাদের কে টার্গেট করা হয়। অনেক সময় তারা ভীত হয়ে পড়ে ব্যবসা করতে। এটা কেবল ব্যবসায়িক হুমকি নয়, সামাজিক হুমকিও। আমরা যদি নিজেদের সমাজকে সত্যিকারের প্রগতিশীল ও মানবিক হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে এই ধরনের সামাজিক অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে।
এবার আসুন, একটু অন্য জায়গায় যাই। আমাদের দেশে ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির পরে অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব বেড়েছে। আপনি যদি গ্রামে যান, তাহলে বুঝবেন, অনেক শিক্ষার্থী এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। কিন্তু এই সুবিধা সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছায়নি। শহরের বাচ্চারা এই সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু গ্রামের অনেক শিশু এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তবে আশা জাগানিয়া কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। যেমন, ‘রবি-১০ মিনিট স্কুল’, ‘শিখো’, এবং ‘অন্যরকম পাঠশালা’। এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী শিক্ষা সরবরাহ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সব গ্রামে কি ইন্টারনেট পৌঁছেছে? না, পৌঁছায়নি। এটা আমাদের দেশের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে না পারলে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন আনা সম্ভব হবে না।
আমি চাই, গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক, যাতে তারা ডিজিটাল শিক্ষার নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন এবং শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে শেখাতে পারেন। সত্যি বলতে কি, আমাদের সবার দায়িত্ব আছে এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়া।
এখানে এসে আবারও ফিরে আসি সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে। তারা যদি নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চায়, তাহলে তাদের দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। তাদেরকে ব্যবসায়ীক সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা ভীত হয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে না হয়। আমাদের সকলের প্রচেষ্টায়ই সম্ভব হবে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
পরিশেষে, আমি বলতে চাই, এই সময়ে আমাদের উচিত নিজেদের মানসিকতা বদলানো। জাতীয় উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের সামাজিক সম্পর্কগুলোকেও উন্নত করতে হবে। যদি আমরা সত্যিকারের প্রগতিশীল সমাজ গড়তে চাই, তাহলে আমাদের উচিত সকল প্রকার সামাজিক বৈষম্য দূর করা। এজন্য দরকার আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সচেতনতা। আমাদের দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়নের প্রকৃত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। এখন আপনার কী মতামত? এজন্য আমাদের কী করা উচিত?
