রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রূপলাল দাস এবং তার জামাতা প্রদীপ লালকে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‘চোর সন্দেহে’ দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তুলে নিতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো।
এ ঘটনায় সোমবার মামলার বাদী রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী দাস থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে তারাগঞ্জ থানার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ জানান।
বাদী ভারতী রানী (৩৬) তার অভিযোগে বলেন, গত বছরের ৯ অগাস্ট তার স্বামী ও জামাতাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১০ অগাস্ট তারাগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন তিনি।
পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ হত্যার ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রুবেল পাইকার (৩০) জামিন পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তার ছেলে জয় রবিদাসকে দেখতে পেয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন।
এ ছাড়া আরেক আসামি সোহাগও তাদের হুমকি দিচ্ছেন।
ভারতী রানী বলেন, “মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা আমাদের গালিগালাজ করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
“ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে বাইরে দোকান করে সংসার চালায়। এখন ছেলেও খুব ভয়ে আছে। ওরা খুব হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা এখন খুব অসহায়। নিরূপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”
রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, “আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওতে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সোহাগ বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেরাচ্ছে। নিজে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
“কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছে না। রুবেল পাইকার জামিনে এসে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাবা হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল পাইকার বলেন, “হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বানোয়াট। মামলায় আসামি ৭০০ লোক। আমরা দুজনে গিয়ে বলব, মামলা উঠিয়ে নেন, আমাদের তাতে কী লাভ। এসব সাজানো অভিযোগ। তাকে আমি চিনি না, জীবনেও তার বাড়িতেও যাইনি।”
আরেক আসামি সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
গত বছরের ৯ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।
পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।
