শিরোনামটি যেমন চমকপ্রদ শোনায়, এর অন্তর্নিহিত অর্থ আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। “মন্দিরে আগুন, বাড়ি ভাঙচুর, দোকান লুট: আগস্টের ‘এক রাতের’ উত্তেজনা” এই শব্দগুলো যেন এক রাতের উন্মাদনার গল্প বলে। তবে আমি আজকের ব্লগে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলব না। বরং আজকের আলোচনার বিষয় হলো বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, যা একরকমে সেই উত্তেজনার বিপরীত দিক নির্দেশ করে। এটি আমাদের দেশের জন্য এক নতুন আলো দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

বাংলাদেশ, একটি ছোট্ট দেশ, যার জনসংখ্যা বিশাল। প্রতিনিয়ত এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য জ্বালানি সরবরাহ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা গল্প করতাম। কিন্তু সেই অন্ধকার দিনগুলো এখন অনেকটাই অতীত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন আমাদেরকে সেই অন্ধকার থেকে আলোর দিকে টেনে নিয়ে এসেছে।

২০১৫ সালের কথা মনে পড়ে, যখন বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বেশ কিছু নীতি গ্রহণ করল। এই পদক্ষেপ যেন এক নতুন যুগের সূচনা করল। তখন সোলার হোম সিস্টেমের প্রসার শুরু হলো, যা গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। সেই সময়ে গ্রামের অনেকেই প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক আলো দেখেছিল, যা তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

২০১৬ সালে সোলার পাওয়ার প্রকল্প গুলোতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ার ফলে এই খাতের আরও বিস্তার লাভ করে। Rural Electrification Board (REB) এর মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে সোলার প্যানেল স্থাপন শুরু হয়, যা আজও চলছে। এতগুলো বছর পেরিয়ে এসে দেখি, গ্রামের মানুষরা এখন বৈদ্যুতিক ফ্যান ব্যবহার করছে, বাচ্চারা টেলিভিশন দেখছে, রাতে পড়াশোনা করছে। এই সবকিছু যেন এক নবজাগরণের সূচনা।

২০১৮ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০%। যদিও সেই সময় তা অসম্ভব মনে হয়েছিল, কিন্তু আমরা ২০২৩ সালে এসে দেখি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৯% এ পৌঁছেছে। এর সিংহভাগই সোলার পাওয়ার প্রকল্প থেকে আসে। এই অর্জন আমাদের দেশের জন্য এক বিশাল সাফল্য।

আমি নিজেও সোলার হোম সিস্টেমের সুবিধা নিয়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে এখন বিদ্যুৎ আছে, যা আগে কেবল শহরের মানুষদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ৬ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। এটি কেবল বিদ্যুতের অভাব মেটাচ্ছে না, বরং আমাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন যোগাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে, বিশেষ করে সোলার প্যানেল উৎপাদন ও স্থাপনা কাজে। এটি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা যোগ করেছে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাস করতে এই খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশের সরকার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একত্রে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো যায়। তবে এই খাতে আরও উন্নতি করতে হলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে।

আমার মনে হয়, এটা সময়ের দাবি যে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে আরও মনোযোগী হই। প্রাকৃতিক জ্বালানি যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা নিঃশেষ হতে চলেছে, এবং এর প্রভাব আমাদের পরিবেশের উপর মারাত্মক। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত আমাদেরকে সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। আমরা যদি সচেতন হই, এই খাতকে আরও উন্নত করার জন্য উদ্যোগী হই, তাহলে একদিন আমরা দেখতে পাবো, আমাদের দেশ প্রকৃত অর্থেই সবুজ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এই অগ্রগতি আমাকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলে। আমি ভাবি, আমরা যদি সবাই মিলে এই খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যত হবে উজ্জ্বল এবং সবুজ। আমরা হয়তো সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি, যখন মন্দিরে আগুন, বাড়ি ভাঙচুর, দোকান লুটের মতো ঘটনা শুধুই কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে, আর আমরা নিজেদের দেশকে নতুন আলোয় আলোকিত করার গল্প বলব।

তাহলে আপনি কি মনে করেন? নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উন্নয়নের পথেই কি আমাদের দেশের ভবিষ্যত নির্মিত হবে? আপনার মতামত কি? আসুন, এক সাথে আলাপ করি এই নিয়ে, এবং দেখি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।

By nandini