বন্ধুরা, আমাদের এই প্রিয় দেশে গত দুই বছর ধরে আমরা কিছু অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। ২০২২ এবং ২০২৩ এই দুই বছর যেন সহিংসতা, ভয় আর এক ধরনের নীরবতার মোড়কে আবৃত ছিল। আমি জানি, আপনারাও নিশ্চয়ই এই পরিবর্তনের কিছুটা হলেও অনুভব করেছেন। আজ আমরা একটু চা পান করার ছলে আড্ডায় বসব, যা আমাদের এই সময়কালের টাইমলাইনকে একটু ভেতর থেকে বোঝার সুযোগ দেবে।

২০২২ সালটা ছিল এক বিপর্যস্ত সময়। কোভিড-১৯ এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা একের পর এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লো। সেই সময়ে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি কিভাবে রাজনৈতিক নেতারা তাদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে। ঢাকার রাজপথ, চট্টগ্রামের গলিপথ কিংবা সিলেটের মোড় সবখানেই যেন সহিংসতার ছাপ। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ কেউ এখনও আতঙ্কে দিন কাটান।

এখন কথা হচ্ছে, কেন এতো সহিংসতা? আমার মতে, এই সহিংসতার মূল কারণ হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা। রাজনীতিবিদেরা যখন নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে হতাশা আর হতাশা থেকেই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া, আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিও একটি বড় কারণ। বেকারত্ব, দারিদ্র্য আর শিক্ষার অভাবও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। এসব সমস্যার সমাধান যদি না হয়, তাহলে সহিংসতা তো বাড়বেই।

২০২৩ সালে আমরা দেখলাম ভয় এবং নীরবতা। আর এ ভয় কিন্তু শুধুমাত্র শারীরিক সহিংসতার নয়। এ ভয় ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে, ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে। দেখুন, আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনীতি যেন সেই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছে না। বারবার দেখি দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমছে, আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভিতরে এক ধরনের ভয় আর অনিশ্চয়তা জন্ম নিচ্ছে। আর এই ভয় থেকেই জন্ম নিচ্ছে নীরবতা। মানুষ যখন কোনো কিছুর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারে না, তখন তারা চুপ হয়ে যায়।

এবার আসি নীরবতার কথায়। এ নীরবতা কিন্তু কেবল ভয় থেকেই নয়, এটি আমাদের সমাজের একটি বড় দিক। আমরা অনেক সময় অন্যায় দেখেও চুপ থাকি। হয়তো আমরা জানি যে আওয়াজ তোলার কোনো মানে নেই, কিংবা হয়তো আমরা জানি আওয়াজ তুললেও কোনো পরিবর্তন হবে না। এ কারণে আমরা নীরব থাকি। কিন্তু এই নীরবতা আমাদের সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা কি আমরা উপলব্ধি করতে পারছি? আমি মনে করি, নীরবতা মানেই অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করা।

তাহলে আমরা কি এভাবে নীরব থাকব, নাকি আমরা কিছু করব? আমার মতে, আমাদের সমাজের এই সহিংসতা এবং নীরবতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। আমাদের উচিত রাজনৈতিক নেতাদের বোঝানো যে তারা যেন নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যবহার না করেন। আমাদের উচিত নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া এবং নিজেদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া।

এই দুটি বছর আমাদের শিখিয়েছে যে, আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান না করি, তাহলে কেউ আমাদের সাহায্য করতে আসবে না। আর এ কারণেই আমাদের উচিত নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তুলতে হবে, কারণ আওয়াজের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব। আমি জানি এটি সহজ নয়, তবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। কারণ, আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের নিজেদের হাতেই।

শেষমেশ আমি বলতে চাই, সহিংসতা, ভয় আর নীরবতার এ দুই বছরের কার্যকলাপ আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আমাদের উচিত এই শিক্ষা থেকে কিছু শিখে আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে সরে আসা। আমরা যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করি, তবে আমরা অবশ্যই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আর আপনাদের কী মত? আমরা কি পারব এই সহিংসতার দুষ্টচক্র ভেঙে ফেলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে?

By sourav