আচ্ছা, বন্ধুরা, কখনো ভেবে দেখেছো কি, আমরা নিজেরাই যেন একটা বিশাল ফাঁদের মধ্যে আটকে আছি? হ্যাঁ, এই কথাটা খুব সম্ভবত কল্পনায় এসেছে আমাদের সকলের। আর সেটা কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নয়, বরং পুরো সমাজের ক্ষেত্রেও। একদিকে যদি আমরা নতুন দেশে অবৈধ পরিচয়ে বসবাস করি, অন্যদিকে পুরোনো দেশের সংখ্যালঘু পরিচয়ে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই করতে হয়। এই অবস্থা যেন আমাদেরকে দুই দিকেই ফাঁদে আটকে ফেলে। এই সমস্যা শুধু আমাদের দেশের নয়, বরং পুরো বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে আছে। এই নিয়ে কিছু কথাবার্তা আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো আজ।

প্রথমেই আসি অতি পরিচিত সেই শব্দটির দিকে অবৈধ। বিদেশে গিয়ে যদি আমাদের কাজ হয়ে যায়, তাহলে আমরা আর কি ভাবি? মনে হয় “ওহ, সব ঠিকঠাক চলছে তো!” কিন্তু সেই কাজটা যদি কোনো অবৈধ কাজে হয়, তাহলে আমরা নিজেদেরকে কোথায় রাখবো? ভেবে দেখো, আমাদের পরিচয় তখন কী হবে? আমরা তখন কেবল একটা অবৈধ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবো। যারা নতুন দেশে পা রাখে, তাদের জন্য এ হতাশা। আর এই হতাশার পেছনে রয়েছে সূর্যের আলো না পাওয়ার মত একটি অবস্থা। হ্যাঁ, কারণ আমাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর স্বপ্নের ফসল যদি অবৈধ পরিচয়ে হারিয়ে যায়, তাহলে আর কী বাকি থাকে আমাদের জন্য?

এবার আসি আমাদের পুরোনো দেশের দিকে। ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ে পুরোনো দেশেও যেন আমরা এক ফাঁদে আটকে থাকি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হওয়া মানে কি জানো? মানে হলো, সবসময় একটা অদৃশ্য চাপের মধ্যে থাকা। এমনকি সমাজের বড় অংশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে আমাদের অনেক বৈচিত্র্য হারিয়ে যায়। আমরা শুধু নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করি, আর এই লড়াই অনেক সময় আমাদেরকে ভেঙে দেয়।

এই অবস্থা কেন হচ্ছে? আমাদের এ অবস্থার পেছনে অনেক কারণ আছে। প্রথমত, অর্থনৈতিক বৈষম্য। অনেকেই কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমায়, কিন্তু সেখানে গিয়েই বুঝতে পারে যে তারা কেবল অবৈধ পরিচয়ে আটকে আছে। আবার আমাদের দেশে, সংখ্যালঘুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হওয়ায় তাদের অবস্থাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর এই দুই পরিচয় মিলিয়ে যেন আমরা একটা ফাঁদের মধ্যে আটকে আছি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখলে আমরা অনেক কিছুই দেখতে পাবো। আমাদের দেশের তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ যখন বিদেশে পাড়ি জমায়, তখন তাদের অনেকেই সেই দেশে অবৈধভাবে বাস করে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে তারা নিজেদের পরিচয় হারিয়ে ফেলে। আবার আমাদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকেই তাদের পরিচয় ও অধিকার নিয়ে চিন্তিত। আমাদের এখানে সংখ্যালঘু হওয়া মানে কেবল ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া।

তাহলে এর সমাধান কোথায়? আমরা কি এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি? যদি ভাবি, তাহলে দেখি যে আমাদের সবারই একটা ছোট্ট প্রচেষ্টা আছে। প্রথমত, আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে যে, আমরা যেন আর অবৈধ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না থাকি। আমাদের একত্র হয়ে কাজ করতে হবে, আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সমাজের সকল অংশের সহযোগিতায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।

দেশের নীতিনির্ধারকদেরও উচিত নিজেদের ভূমিকা পালন করা। তাদের উচিত নীতি প্রণয়ন করা, যাতে করে কেউ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিতে না চায়। দেশের ভেতরে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। আমাদের সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সচেতন হতে হবে, তারা যেন সকলের অধিকার রক্ষা করতে পারে।

তবে, আসল প্রশ্ন হলো আমরা কি একত্র হয়ে এই ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে পারবো? আমরা কি আমাদের পুরোনো দেশের সংখ্যালঘু পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো, অথবা নতুন দেশে অবৈধ পরিচয়ে আটকে থাকা থেকে মুক্তি পেতে পারবো? কি জানি, উত্তরটা হয়তোবা বাকি রাস্তায় খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের এখনই উচিত ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই ফাঁদ থেকে মুক্তি পায়। আর এই আশা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।