বাংলাদেশে যারা শহরে বাস করেন, তারা নিশ্চয়ই পুলিশের পাহারার কথা শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পিছনে আসল সত্যটা কি? আজ আমি সাম্প্রতিক একটি প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবো, যেটা আমাদের সবারই ভাবার বিষয়।

বাহ্! পুলিশের পাহারা! প্রথমবার শুনলে মনে হয় নিরাপত্তা নিশ্চিত। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, এই পাহারা কখনো কখনো চোখের ধুলা মাত্র। হ্যাঁ, আপনাকে আমি গোপন কিছু বলতে চাইছি না। এটা আমারই অভিজ্ঞতা। রাস্তায় চলতে ফিরতে, কখনো কখনো মনে হয় আমরা যেন জীবন্ত ক্যামেরার সামনে জীবন কাটাচ্ছি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি, কিন্তু পুরোনো হামলার মামলাগুলোর অগ্রগতি যেন শূন্য।

আমরা সবাই জানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সুরক্ষার জন্যই কাজ করে। কিন্তু কেমন সেই সুরক্ষা, যদি পুরোনো হামলার মামলার সুরাহা না হয়? ২০১৯ সালে ঘটা একটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমার এলাকার এক ছোট ভাইয়ের উপর হামলার খবর শুনেছিলাম। সে দিন অফিস থেকে ফিরছিল, হঠাৎ করে কিছু দুর্বৃত্ত তার উপর আক্রমণ করে। মামলা হয়েছিল, কিন্তু আজও সেই মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশি তদন্ত চলছে, কিন্তু ন্যায়বিচার যেন দূর কল্পনা।

পুলিশের কাজের প্রশংসা করতেই হবে। তারা অনেক কষ্ট করে আমাদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাদের কাজের প্রকৃত ফলাফল যদি হতাশাজনক হয়, তাহলে সেই সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসলে আমরা যে দেশে বাস করি, সেখানে বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা অনেক সময় আদালতে মামলা গড়ানোর পথে প্রধান বাঁধা। পুরোনো মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা অনেক সময় জনগণের অসন্তোষের জন্ম দেয়। কারণ, মানুষের বিশ্বাস ভেঙে গেলে কোনো কিছুই স্থায়ী হয় না।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমনটা হয়? কেন পুরোনো হামলার মামলাগুলোর অগ্রগতি থাকে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, মামলার জটিলতা এবং আদালতগুলোর অপ্রতুলতা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, এবং ধর্ষণের মত বড় অপরাধগুলোর সুরাহাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই কারণে জনগণের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারানোর প্রবণতা দেখা দেয়।

আমি এখানে একটি কথা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে সচেতনতার অভাব। হ্যাঁ, আমাদের সমাজে সচেতনতার অভাব একটি বড় সমস্যা। আমরা অনেক সময় নিজেদের সমস্যার কথা চুপচাপ মেনে নেই, কিন্তু মুখ খুলি না। আর এই চুপচাপ মানে নেওয়াটা অনেক সময় আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়। আমাদের উচিত নিজেদের হক বুঝিয়ে নেওয়া। পুলিশি তদন্তের গতি বাড়ানোর জন্য এবং পুরোনো মামলাগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পুরোনো হামলার মামলাগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রথমেই সচেতন হতে হবে। আমরা যদি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই, তাহলে পুলিশ এবং বিচার বিভাগে কাজের প্রতি চাপ সৃষ্টি করানো সম্ভব হবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের চারপাশের সমস্যাগুলোকে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনা। আমরা যদি সবাই মিলে একত্রে কাজ করি, তাহলে পুরোনো মামলাগুলোর সঠিক তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

অবশেষে, আমার মনে হয় আমাদের উচিত নিজেদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। আমরা যদি সচেতন হই এবং নিজেদের অধিকার বুঝিয়ে নিতে পারি, তাহলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। পুরোনো হামলার মামলাগুলোর অগ্রগতি হবে, আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই পারে আমাদের সমাজকে প্রকৃত অর্থে নিরাপদ করে তুলতে। আপনার কি মনে হয়? কেবল পাহারায় কি আসলে কাজ হবে, নাকি আমাদের নিজেদেরও কিছু করণীয় আছে?

By sayan